Upcoming Events

No upcoming events.

লন্ডনে জিসিএমের বার্ষিক সাধারণ সভার বাইরে ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত ।

আজ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোল মাইনিং কোম্পানি গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্টের (জিসিএম, সাবেক এশিয়া এনার্জি) বার্ষিক সাধারণ সভার বাইরে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লন্ডনের তীব্র শীতের সকালে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডনের হাইড পার্ক কর্নার সংলগ্ন হ্যামিলটর প্লেসের সামনে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে এ বিক্ষোভ চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বিক্ষোভকারীরা প্লাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে জিসিএম বিরোধী শ্লোগান আর শব্দ দিয়ে মুখরিত করে তোলেন গোটা এলাকা। বাংলাদেশের তেলগ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার আহবানে ফুলবাড়ি সলিডারিটি কমিটি, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্ক, গ্লোবাল জাস্টিস, সোস্যালিস্ট পার্টি ফর ইংল্যান্ড ও ওয়েলস সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি এতে অংশ নেন।

জিসিএমকে একটা অফিস সর্বস্ব প্রতারক কোম্পানি হিসেবে আখ্যায়িত করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোন চুক্তি ছাড়াই জিসিএম ফুলবাড়ি কয়লা প্রকল্প দেখিয়ে লন্ডনে অলটারনেটিভ শেয়ার মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চলেছে। লন্ডন শেয়ার বাজার থেকে প্রথমে এশিয়া এনার্জির নামে ১৪ মিলিয়ন ও পরে নাম পাল্টে জিসিএমের নামে আরো ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করেছে। বক্তারা জিসিএমকে লন্ডন শেয়ার মার্কেটে ফুলবাড়ির নামে শেয়ার বিক্রি বন্ধ ও লন্ডন স্টক একচেঞ্জর তালিকা থেকে জিসিএমকে বাদ দেবার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার চুপ থেকে জিসিএমকে লন্ডন শেয়ার মার্কেটে প্রতারণায় সহায়তাই করছে ও প্রচ্ছন্নভাবে মদদ দিয়ে চলেছে।সম্প্রাতি জিসিএম ফুলবাড়িতে কয়লা প্রকল্প বিরোধীদের নামে মামলা দায়ের করেছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ সব সম্ভব না। বক্তার বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফুলবাড়ি প্রকল্প দেখিয়ে লন্ডন শেয়ার মার্কেটে জিসিএমের শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বক্তব্য দাবি করেন এবং বাংলাদশে জিসিএমের সকল কার্যকলাপ বদ্ধ ও জিসিএমকে বহিস্কারের জোর দাবি জানান। বক্তারা বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে কয়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ এরাই আবার মুনাফার লোভে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।সমাবেশ থেকে বক্তারা জিসিএমকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার আহবান জানান, অন্যথায় তাদের আরো কঠিন আন্দোলন মোকাবেলা করতে হবে বলে জানান।

বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশর পাশাপাশি সাধারণ সভার ভেতরে কয়েকজন প্রক্সি শেয়ার হোল্ডার শেয়ার মার্কেটে জিসিএমের অবৈধ ব্যবসা, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোন চুক্তি না থাকা, স্থানীয় প্রতিরোধকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন- যার কোন সদুত্তরই জিসিএম দিতে পারেনি। গত কয়েক বছরের মতো এবারেও সাধারণ সভায় প্রধান প্রশ্ন ছিলো বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে জিসিএম কখন অনুমোদন পাবে? এ বিষয়ে জিসিএম কর্মকর্তারা কোন ইতিবাচক খবর দিতে না পারায় সভায় হতাশা নেমে আসে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার আহবায়ক ডা: মুখলিছুর রহমান, সদস্য সচিব ড. আখতার সোবহান মাসরুর, বাসদ (মার্কসবাদী)’র মোস্তফা ফারুক, খন্দকার মিজানুর রহমান বাবলু, রহিমা খাতুন জুলি, ফুলবাড়ি সলিডারিটির ড. রুমানা হাশেম, গোলাম রাব্বানি, ড. রাশেদ চৌধুরী, সোস্যালিস্ট পার্টি ফর ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসের পিট মেসন ও স্কট জনস, ভারতের নামগিরী আন্দোলনের নেতা ফয়েল ভেডান্টের সমরেন্দ্র দাশ, মরিয়ম রোজ, জাহানারা আক্তার রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দ এনাম, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্কের রিচার্ড সলি, স্যাম স্যান্ডার, রাইজিং আপের রিচার্ড পিয়ানো, জেনি শেরার, রিক্লেম দ্যা পাওয়ার-এর মে ম্যাকিথ, এন্টন জিসেন প্রমুখ।