Upcoming Events

No upcoming events.

লন্ডনে জিসিএমের বার্ষিক সাধারণ সভার সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোল মাইনিং কোম্পানি গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্টের (জিসিএম, সাবেক এশিয়া এনার্জি) বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালে সভার বাইরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের তেলগ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার আহবানে ফুলবাড়ি সলিডারিটি কমিটি, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্ক, সোস্যালিস্ট পার্টি ফর ইংল্যান্ড ও ওয়েলস সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি এতে অংশ নেন। এ সময় তারা জিসিএমের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।
জিসিএমকে একটা অফিস সর্বস্ব কোম্পানি হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তারা বলেন, ইতোমধ্যে সরকারের একজন মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, উত্তরাঞ্চলে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না। এছাড়াও ফুলবাড়ির স্থানীয় প্রতিরোধের কারণেও বাংলাদেশে জিসিএমের কোন ভবিষ্যৎ নেই। কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ০.৯ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান করেছে। কোম্পানি কাজ চালিয়ে যেতে ও বাংলাদেশের কাছ থেকে অনুমোদন পেতে ৩ মিলিয়ন কনভার্টেবল ঋণ করতে সম্মত হয়েছে। এ বছরের জুন মাসে ০.২ মিলিয়ন ও নভেম্বরে ০.৫১ মিলিয়ন কনভার্টেবল ঋণ গ্রহণ করেছে কোম্পানি। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই জিসিএম মিথ্যাচার করে লন্ডনে অলটারনেটিভ শেয়ার মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। কোম্পানির শেয়ারে ধ্বস নেমেছে। এক বছরের মধ্যে শেয়ার মূল্য ২২.৫ থেকে ৬.০০ পাউন্ডে নেমে এসেছে। শেয়ারের মূল্য পড়ে যাবার ফলে জিসিএমের বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। শেয়ার বাজারেও আর বেশীদিন প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারবে না তারা।
সমাবেশে থেকে এই প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলা হয় যে, ফুলবাড়ি কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে, ১৪ হাজার একর কৃষিজমি ও ৫০ হাজার জলাশয় ধ্বংস হবে। খনি এলাকা পানি শূণ্য করতে ৩৫ বছর ধরে অবিরাম জল উত্তোলনের ফলে ঐ অঞ্চলের পানির স্তর ১৫ থেকে ২০ মিটার নেমে যাবে, ফলে দেখা দিবে পানি সঙ্কট। এছাড়াও, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুকির মুখে রয়েছে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমন জলবায়ু বিপর্যয় ডেকে আনবে। ফুলবাড়ি কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আরো বেশী জলবায়ু বিপর্যয়ে পড়বে। পড়বে। যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে কয়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। গতকালই ইংল্যান্ডের সর্বশেষ কয়লাখনি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ এরাই আবার মুনাফার লোভে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জিসিএমকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার আহবান জানান, অন্যথায় তাদের আরো কঠিন আন্দোলন মোকাবেলা করতে হবে বলে হুশিয়ারী দেন। এছাড়াও সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে বাংলাদেশে জিসিএমের সকল কার্যকলাপ ও অফিস বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানানো হয়।
সাধারণ সভার বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশ আর ভেতরে কয়েকজন প্রক্সি শেয়ার হোল্ডার সাধারণ সভাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তোলেন। সাধারণ সভার ভেতর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। হাস্যকরভাবে মাত্র ৫ জন শেয়ার হোল্ডারের জন্য ৬জন নিরাপত্তা কর্মী রাখা হয়। জিসিএমের কর্মকর্তারা কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ইতিবাচক সংবাদ না দিতে পারায় শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়। গত কয়েক বছর যাবৎ সাধারণ সভায় যে প্রশ্নটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে তা হলো, কখন জিসিএম বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পাবে? কর্মকর্তারা এ যাবৎ মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে আসলেও এখন আর সে আশ্বাসে কাজ হচ্ছে না।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখার আহবায়ক ডা: মুখলিছুর রহমান, সদস্য সচিব ড. আখতার সোবহান মাসরুর, বাসদের (মার্কসবাদী) মোস্তফা ফারুক, ওয়ার্কার্স পার্টির ইসহাক কাজল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবিদ আলী, ফুলবাড়ি সলিডারিটির ড. রুমানা হাশেম, সাংস্কৃতিক সংগঠক গোলাম মোস্তফা, কবি গোলাম কবির, গোলাম আকবর মুক্তা, নুরুল ইসলাম, সোস্যালিস্ট পার্টি ফর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পিট মেসন, আনসার আহমেদ উল্লাহ, পিয়া মাইনিন, শেফালি বেগম, ভারতের নামগিরী আন্দোলনের নেতা ফয়েল ভেডান্টের সমরেন্দ্র দাশ ও জাহানারা আক্তার রহমান প্রমুখ।