Upcoming Events

No upcoming events.

সুন্দরবন সংহতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক বার্লিন কনভেনশনে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ইউরোপিয় শাখা গঠিত

জার্মানির বার্লিনে হাউস অব ডেমোক্রাসি হলে ১৯ -২০ আগষ্ট দু’দিনব্যাপী সুন্দরবন সংহতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক ইউরোপিয় কনভেনশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।কনভেনশনে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেন থেকে ৮০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।২০ আগষ্ট শেষ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহকে নিয়ে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ইউরোপিয় শাখা গঠন করা হয়েছে।ইউরোপিয় শাখার সমন্বয়ক নির্বাচিত হন মোস্তফা ফারুক। জাতীয় কমিটির আন্দোলনের স্বপক্ষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে জনমত গড়ে তোলা, ইউরোপের রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিসমূহের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও বিভিন্ন দেশের জাতীয় কমিটির কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ইউরোপীয় শাখা কাজ করবে।
বর্লিন কনভেনশনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর আনু মুহাম্মদ বলেন, রামপাল প্রকল্প কেবল সুন্দরবন ধ্বংস করবে না তা বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্কের মধ্যে একটা স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে। তিনি জ্বালানিসহ জনসম্পদের উপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে নদী নালা, খাল বিল, মাঠ, ঘাট প্রান্তর সব দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি এসব লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে মানুষকে রুখে দাড়ানোর আহবান জানান। কনভেনশনে তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি বক্তব্য রাখেন।
কনভেনশনের শেষ অধিবেশনে বার্লিন ঘোষণা গৃহীত হয়। বার্লিন ঘোষণায় অবিলম্বে সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক ভারত–বাংলাদেশ যৌথ রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের আহবান জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয় যে, রামপাল প্রকল্প প্রজাতি ও প্রতিবেশ ধ্বংস করে মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্কের বিপত্তি ঘটাবে। সুন্দরবন ধ্বংস হলে ঐ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ও স্থানীয় জীবনযাত্রা ভেঙ্গে পড়বে। ঘোষণায় আরো বলা হয়, অগ্রসর দুনিয়া যখন কয়লা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালনির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ তখন কয়লাভিত্তিক নোংরা জ্বালানির পথ বেছে নিচ্ছে। ঘোষণায় বাংলাদেশ সরকারকে কয়লার বিকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খাতে কর্পোরেট স্বার্থকে রক্ষা না করার আহবান জানানো হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০৪১ সালের মধ্যে বর্তমান ৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার সরকারের জ্বালানি মহাপরিকল্পনা ২০১৬ এর সমালোচনা বলা হয় এতে পরিবেশ ও প্রযুক্তিগত বিকাশকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বার্লিন ঘোষণায় ২০৪১ সালের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের জাতীয় কমিটির বিকল্প জ্বালানি নীতি প্রতি সমর্থন জানানো হয়। বার্লিন ঘোষণায় সমর্থন জানিয়ে ১০৩টি সংগঠন ও ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন পিস, ফ্রেন্ডস অব দা আর্থ, ওয়াল্ড ওয়াইল্ড ফাউন্ডেশন, থ্রি ফিফটি, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্ক, কোল একশন নেটওয়ার্ক ইউকে,উইমেন ইনগেইজ ফরদি কমন ফিউচার, ব্যাংক ট্র্যাক, আর্থ ফরএভার ফাউন্ডেশন, ফয়েল ভেডান্ট, ম্যানগ্রোভ একশন গ্রুপ ইউএসএ, ওয়াল্ড লাইফ ইমপ্যাক্ট, জার্মান রিসার্চ সেন্টর ফর জিও সায়েন্স, উইমেন আফ্রিকান এলায়েন্স, ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক নেপাল, ক্লাইমেট এলায়েন্স জার্মানি ইত্যাদি।
https://docs.google.com/document/d/1cJr09W1IP7PkhKw332TzIcoE52DvrHvipS2e...
দুদিনব্যাপী এ কনভেনশনে মোট আটটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জার্মানির হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ভিলফ্রেড এন্ডলিসার, কোলন বিশ্বাবদ্যালয়ের প্রফেসর হার্টমুট বেরভোল্ফ, গ্রিনপিসের ক্রিসটিন ডোরেনব্রুক, লাইবনিজ ভূপদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. আজিজুর রহমান, বিকল্প জ্বালানি গবেষক মাহবুব সুমন, জার্মান পরিবেশ ফোরামের এলিজাবেথ স্টাউড, পরিবেশ সাংবাদিক ক্যাথরিন ফিঙ্কে, ডেভিড ওয়েন্ড ও ভারতের পিপলস সায়েন্সের ড. সৌম্য দত্ত। বিভিন্ন পর্বে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন, দেবাশিস সরকার, ড. অনিমেষ গাইন, তানজিয়া ইসলাম ও ওয়াহেদ চৌধুরী।
কনভেনশনের শেষ অধিবেশনে বার্লিন ঘোষণা উত্থাপন করেন দেবাশীষ সরকার। অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন, জার্মানির বাবুল সৈয়দ। যুক্তরাজ্যের ডা. মুখলিছুর রহমান, ড. আখতার সোবহান মাসরুর, ডা. রফিকুল হাসান, গোলাম কবির, ডা. সেলিম ভূইয়া ও ডা. সাহিদা সুলতানা। ইটালির শিপলু আহাত শামুল, ফ্রান্সের নিলয় সূত্রধর সুমন, সুইডেনের বসিত চৌধুরী, নরওয়ের আশরাফুল হক আবির ও নেদারল্যান্ডেসের অনুপম সৈকত শান্ত প্রমুখ।
সন্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে আরো অংশ নেন, জাহানারা বেগম, রহিমা খাতুন,ড.আয়েশা সিদ্দিকা, আনিসুর রহমান, নাসরিন সুলতানা ও পূণ্যা প্রমুখ।