Upcoming Events

No upcoming events.

London Protest against Rampal Power Plant: A Memorandum to the PM of Bangladesh

লন্ডনে সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল বিদুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবি ও হাই কমিশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সমীপে স্মারকলিপি পেশ৤

সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যু্ৎ প্রকল্প বাতিলেরে দাবিতে গত ১৪ নভেম্বর লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরারব স্মারকলিপি প্রদান করা হয়৤ লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী বরারব স্মারকলিপি পৌছে দেবেন বলে জানান৤ এ সময় তেল গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষা কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডা : মোখুলিছুর রহমান, , ইসহাক কাজল, মোস্তফা ফারুক, ড. আখতার সোবহান খান মাসরুর, গোলাম আলী মুক্তা, জাহানারা বেগম, প্রসেনজিৎ দত্ত, শেফা প্রমুখ৤ এই সাথে প্রধানমন্ত্রী সমীপে প্রদত্ত স্মারকলিপি নিম্নে তুলে ধরা হলো ৤

স্মারকলিপি
১৪ নভেম্বর ২০১৩, লন্ডন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা
মাধ্যম: বাংলাদেশ হাই কমিশন, যুক্তরাজ্য

বিষয়ঃ সুন্দরবন ধ্বংসকারী কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সুন্দরবন রক্ষা করুন৤

আপনি অবগত আছেন যে,জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বন সংরক্ষণ ও উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ৤ নিম্নভূমি হিসাবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশী বিপদের মুখে৤ অথচ আপনার সরকার এসব উপেক্ষা করে সুন্দরবনকে চরম হুমকিতে ফেলে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি`র সাথে যৌথভাবে সুন্দরবনের অদুরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎতকেন্দ্র করতে যাচ্ছে৤ জনমত ও তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী লংমার্চকে তোয়াক্কা না করে গোপনে নির্ধারিত তারিখের ১৭ দিন আগে রিমোটকন্ট্রোলের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিফলক উন্মোচন করে সরকার দুর্বলতারই প্রকাশ ঘটিয়েছে৤

আমরা মনে করি, সুন্দরবনের খুব কাছাকাছি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে৤ বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সেখানকার গাছপালা ও বন ধ্বংস হবে৤ সেই সাথে বিনাশ ঘটবে সুন্দরবনে বসবাসরত প্রাণীকুলের৤ জীববৈচিত্রের ওপরও পড়বে এর বিরূপ প্রভাব৤ কয়লা পরিবহনের ফলে নদীদুষণ ঘটবে৤ সর্বোপরি স্থানীয় জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে৤ পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যু ৎ প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক্ করে দিলেও আপনার সরকার সে বিষয়ে কোন কর্ণপাত করছে না৤

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার এই যে, ভারতে বন ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য সংরক্ষিত এলাকার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরীতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখান থেকে বিতাড়িত ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি বাংলাদেশের সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরীর কাজ করতে যাচ্ছে৤ ভারত সরকার নিজেদের স্বার্থ্ দেখছে অথচ আপনার সরকার এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ্ দেখছে না৤

সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে যে, সুন্দবনের প্রাকৃতিক পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য সুপার ক্রিটিকাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে৤ আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও বড়জোর ১০ শতাংশ ক্ষতি কম হবে৤ ৯০ শতাংশ ক্ষতি নিয়ে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি আমরা কেন করতে যাব? আসলে সরকার ভারতের কর্পোরেটদের স্বার্থে রামপালে বিদ্যুৎ উ্ৎপাদনের নামে সুন্দরবনের ধ্বংস ডেকে আনছে৤

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক দিক থেকেও সফল হবে না৤ প্রকল্পের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা কয়লার প্রাপ্যতা, দাম ও পরিবহনের খরচ বিবেচনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ হবে ব্যয়বহুল৤ এ প্রকল্পে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি মুনাফার অংশীদারিত্ব পাবে৤ কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয়ের বোঝা টানবে একা বাংলাদেশ৤

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিবেশ সমীক্ষার (ইআইএ) আগেই শুরু করা হয়েছে৤ কাজ শুরুর প্রায় দুই বছর পর যে ইআইএ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সরকারের আগেভাগে গৃহীত রামপাল প্রকল্পের পক্ষে সাফাই দেয়া হয়েছে৤ প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন কথাবার্তার মাধ্যমে সুন্দরবন সুরক্ষার দিকটি উপেক্ষা করা হয়েছে৤

আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, গণদাবি উপেক্ষা করে আপনার সরকার একগুয়েমিভাবে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর৤ কিস্তু আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, বিকল্প অনেক জায়গাও আছে৤ কিন্তু সুন্দরবন একটাই, তাকে কোনভাবেই ধ্বংস করা চলবে না৤ তাই আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ঘোষণা করতে হবে ও সরকারকে সুন্দরবন সংরক্ষণের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে৤ সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে৤ তাই পূর্বাপর বিবেচনাপূর্ব্ক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে সরকারের সুমতি আশা করছি৤ অন্যথায় সুন্দরবন বাঁচাতে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলে দেশে বিদেশে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে৤

ডাঃ মোখলিছুর রহমান, আহবায়ক ও ড.আখতার সোবহান খান মাসরুর, সদস্য সচিব

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ -বন্দর রক্ষা কমিটি, যুক্তরাজ্য